মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর প্রকল্পের কাজের গুণগত মানসম্পন্ন কর্মকান্ড নিশ্চিত করতে সকল প্রতিকূলতা শক্ত হাতে মোকাবেলা করবে মন্ত্রানালয় -এলজিআরডি মন্ত্রী। করোনা আক্রান্ত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ভালো আছেন ভ্যাটের সনদ প্রতিষ্ঠানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ব্যাংকক নেওয়া হল সাহারা খাতুনকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট চান শিক্ষামন্ত্রী পূর্ণিমার রাতেও বিএনপি অমাবস্যার অন্ধকার দেখতে পায়: কাদের বিএনপির ৫৯২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির কোন নেতা জেলে: ফখরুলকে কাদের করোনা যোদ্ধাদের পাশে বিডিসমাচার ফাউন্ডেশন চাচি কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হত্যার চেষ্টা

করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসাব বিভাগের কর্মীরাও

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি হিসাব বিভাগের কর্মীরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। লকডাউনের পুরো সময়টাতে সারা দেশের হিসাব বিভাগের অফিস খোলা ছিলো এবং এখনো আছে। কিন্তু তাদের কোনো কাজের স্বীকৃতি বা উল্লেখ নেই সরকারি কার্যক্রমে। বিষয়টিতে হিসাব বিভাগের সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ। এরপরও তারা সরকারি দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন। যেকারণে এ বিভাগের কর্মীদের করোনাভাইরাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন অন্তত তিনজন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) মো. জহুরুল ইসলাম আজ বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে সরকারি অফিস সম্পর্কে যেসব আদেশ প্রথম দিকে জারি করা হয়েছে তার কোনোটাতেই একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের নাম ছিল না। কিন্তু লকডাউনের সময় পুরো সময়টাতে সারাদেশের হিসাব বিভাগের অফিস খোলা ছিল। এ কারণে অনেক সহকর্মীর মনে কষ্ট আছে।তিনি বলেন, অফিসে যেতে রাস্তায় বের হয়ে আমাদের কর্মীদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারা বলেছে, সরকারি আদেশে যেসব অফিস খোলার কথা বলা হয়েছে সেখানে একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের নাম নেই। অথচ তারা জানেন না, প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি ঠিক সময়ে মাসের বেতন পেয়েছেন। এটা হিসাব বিভাগ খোলা না থাকলে সম্ভব হতো না।সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের ওপর। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সিজিএ জহুরুল ইসলাম জানান, সিজিএ অফিসে আজ পর্যন্ত তাদের ৪২ জন কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন তিনজন। আর আটজন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে ৩১ জন কর্মী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনাভাতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিজিএ জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের জন্য কোনো প্রণোদনাভাতা ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের কর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে ফার্স্টেশন আছে। আসলে সত্যি কথা বলতে কি, কর্মীরা আমার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। কোনো প্রণোদনা নাই, কিছু নাই। কিন্তু তারা কাজ করছে ঝুঁকি নিয়ে বরং আমাদের ঝুঁকিটা তো বেড়ে গেছে। আগে আমাদের কর্মীরা বাসে অফিসে আসতে পারতো। কিন্তু এই সময়ে তো বাসে আসতে পারে না। ফলে সবাইকে অন্যভাবে আসতে হচ্ছে; খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে। তারপরও কাজ করে যাচ্ছে। সরকার বলেছে, সরকারি দায়িত্ব পালন করছে। অথচ নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের শুরুর দিকে একদিনের জন্য আমাদের অফিস বন্ধ ছিলো, অফিসার যায় নাই। এটা নিয়ে রীতিমত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে কক্সবাজার, বগুড়া বা বিভিন্ন স্থানে রেড জোনে লকডাউন দিচ্ছে এখানে কিন্তু হিসাব বিভাগের কর্মীরা অফিস করছেন। তাদের অফিস জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্তও না। তারপরও স্থানীয় পর্যায় থেকে তাদের অফিসকে জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করানো হচ্ছে।এই বিভাগের যুগ্মসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার সারাদেশে যে ত্রাণ সহযোগিতা পাঠাচ্ছে তার সকল টাকার কার্যক্রম হিসাব বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এই বিভাগ খোলা না থাকলে ডিসি, ইউএনওরা ব্যাংক থেকে একটি পয়সাও তুলতে পারবেন না। অথচ সরকারের বিভিন্ন ঘোষণায় শুধু বড় বড় মন্ত্রণালয়ের কথা উল্লেখ থাকে আমরা যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি তাতে কারো নজর নেই।হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত কভিড-১৯ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত/মৃত্যু কর্মকর্তা/কর্মচারীর হালনাগাদ তথ্যে থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৪২ জনের মধ্যে জুনিয়র অডিটর, অডিটর, ইউএও, সুপার, এএন্ডএও, সিএএফও, ডিএএফও, অফিস সহায়ক ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীও আছেন।

যারা মারা গেছেন : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ইউএও অফিসের উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, চাঁদপুরের মতলব দ্ক্ষিণের ইউএও অফিসের উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল বারেক ও অফিস সহায়ক রেদোয়ানুল কবির (মিলটন)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *