বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

বছরের প্রথম দুই মাসে সহস্রাধিক মৃত্যু মুজিববর্ষে সড়ক দুর্ঘটনাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হোক

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৩১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫৪৭ জন নিহত ও ১,১৪১ জন আহত হন। একই সময় রেলপথে ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, ১০ জন আহত হন। নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৮ জন আহত এবং ৩০ জন নিখোঁজ হন। আর সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ৫৯৭ জন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৪ জন নিহত ও ১,১৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৪৮জন নিহত, ১৩জন আহত হন। নৌ-পথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত, ৫৬ জন আহত এবং ৬৪ জন নিখোঁজ হন। অর্থাৎ সড়ক, রেল ও নৌ পথে দুর্ঘটনায় মোট ৬২২ জন নিহত ও ১,২৩৮ জন আহত হন। অর্থাৎ বছরের প্রথম দুই মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১,১৬৯ জন, আর আহত হয়েছেন ২,৪০৭ জন। অন্যদিকে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুারিতে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ২৫টি, আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫৯টি। তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে ২৭টি, কিন্তু কম দুর্ঘটনাতেও বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আমরা জানি, পত্রিকায় সব খবর আসে না বিধায় শতভাগ পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব নয়। যেটুকু পাওয়া যায় তাতেই এত সংখ্যক হতাহত, প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চয়ই এর চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২১২ জন পথচারী, ১৩৪ চালক, ৭৩ পরিবহন শ্রমিক, ২৬০ শিক্ষার্থী, ১৩ শিক্ষক, ২ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৮৮ নারী, ৭৬ শিশু, ১ সাংবাদিক, ১ প্রকৌশলী, ২ মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে নিহত হন ৯৯ জন চালক, ১৮৭ পথচারী, ৬২ নারী, ৭১ ছাত্র-ছাত্রী, ৪৫ পরিবহন শ্রমিক, ৫৪ শিশু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৩ নেতাকর্মী, ২ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১১ শিক্ষক, ১ জন প্রকৌশলী ছিল। মোট সংগঠিত দুর্ঘটনায় ১৫.৭৫ শতাংশ বাস, ২৭.৯৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৪.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৮.১৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২০.৯৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১০.৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১২.৩৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ছিল। মোট দুর্ঘটনার ৫৭.৫৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৮.০৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.৬৭ শতাংশ খাদে পড়ে, ৫.৯৫ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৫৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ১.৩৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনা সব ধরণের যানবাহনের মধ্যে ঘটছে এবং সব পর্যায়ের মানুষই ঝুঁকির মধ্যে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতিরি পরিসংখ্যানে যেসব তথ্য উঠে এসেছে তা ভয়াবহ। দুই মাসে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ও দুই হাজারেরও বেশি মানুষের আহত হওয়া মোটেই স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে অনেকদিন ধরেই অনেক আলোচনা চলছে, হয়েছে আন্দোলনও। কিন্তু তারপরও এটিকে নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়নি। এর জন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও পথচারীদের অসচেতনতা -দুটোই দায়ী। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আলাপ-আলোচনা, সমালোচনা ও পরিকল্পনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই অসংখ্য মানুষের এভাবে অকালমৃত্যু বন্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করার সুযোগ আর নেই। প্রতি মাসে নিহত ও আহতের সংখ্যা হিসেব করে বছর শেষে বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় আমরা হা-হুতাশ করি। বছরের পর বছর এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে, তারপরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না -এটি খুবই দুঃখজনক এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ ফলাফল নিয়ে আসবে। সরকার মুজিববর্ষে নানা ধরণের কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আমরা সড়ক দুর্ঘটনাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে মুজিববর্ষে একটি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *