শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

হাইকোর্টের ৫দফা নির্দেশনা গুজব-গণপিটুনি বন্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হোক

গতবছর পদ্মা সেতু নিয়ে একটি গুজবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। এ সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে টেনে বের করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যার ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পরে এর প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট একটি রিট আবেদন করা হয়। সর্বোচ্চ আদালতে করা ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে দেশে গুজব ছড়ানো ও গণপিটুনির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের দেওয়া ৫ দফা নির্দেশনা হলো পুলিশের প্রত্যেক সার্কেল কর্মকর্তা (এএসপি) তার অধীনের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ৬ মাসে অন্তত একবার গণপিটুনি প্রবণতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিটিং করবেন। গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রচার কার্যক্রম ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অব্যাহত রাখবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনও ধরনের অডিও, ভিডিও, খুদে বার্তা -যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনির ক্ষেত্রে মানুষকে উসকানি দিতে পারে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বন্ধের ব্যবস্থা নেবে।
যে দুষ্কৃতকারীরা এই কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। যখনই গণপিটুনির কোনও ঘটনা ঘটবে কোনোরকম দেরি না করে তখনই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবেন। পরে তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে অবহিত করবেন।
এছাড়া গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনায় উত্তর বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ছিল কিনা সে ব্যাপারে ঢাকার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
কিছু আইনজীবী ব্যক্তি উদ্যোগে সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে প্রায় সময়ই রিট দায়ের করেন।
যেগুলো জনস্বার্থের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণকর। তেমনই একটি হলো গুজব ও গণপিটুনি বন্ধে দায়ের করা রিট আবেদনটি। প্রায় সময়ই দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণপিটুনিতে নিহতে খরব পাওয়া যায়।
এগুলোর মধ্যে আবার অনেকেই একদম নিরীহ এবং দায়ী করা ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত থাকেন না।
দ্বিতীয়ত অপরাধী হলেও তার বিচার পাবার অধিকার এবং বিচার করার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে যাচাই না করেই চিলের পেছনে দৌড়ানো মানুষের অভাব নেই। তাই মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করার বিকল্প নেই।
যদিও সরকার গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগ ততটা জোরালো নয়। তাই গুজব ও গণপিটুনি বন্ধে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনও ধরনের অডিও,
ভিডিও, খুদে বার্তা -যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনির ক্ষেত্রে মানুষকে উসকানি দিতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার জন্য প্রচারণা চালাতে হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও দ্রুত তা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। যে দুষ্কৃতকারীরা এই কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটলে পুলিশকে নির্লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। তাই হাইকোর্টে নির্দেশানুযায়ী যখনই কোথাও গণপিটুনির কোনও ঘটনা ঘটবে কোনোরকম দেরি না করে তখনই সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআর নিতে হবে। আমরা আশা করি, হাইকোর্টের নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা হলে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *