মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০১:০১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম ইউসিবি ব্যাংকে চুরির চেষ্টা: এক সপ্তাহ পরও গ্রেফতার হয়নি কোনো আসামি

চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) কদমতলী শাখায় ভল্ট ভেঙে টাকা চুরির চেষ্টার ঘটনার এক সপ্তাহ পরও কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
এমনকি শাখাটি থেকে চুরি হওয়া ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। পরিকল্পিতভাবে শাখাটিতে চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি ও ডবলমুরিং থানার একটি টিম চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ব্যাংকের আশপাশে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লাগানো সিসি ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এসব সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্যাংকের শাখাটিতে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে ব্যাংকের নৈশপ্রহরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর চুরির চেষ্টার ঘটনাটি ধরা পড়ে। গত নভেম্বর মাসে নগরীর দুটি ব্যাংকে এটিএম বুথে জালিয়াতি করে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ জানায়, ইউসিবিএল কদমতলি শাখায় চোরচক্রের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তারা ভবনের বাইরে থেকে এসে তালা ভাঙেনি। আগে তারা ব্যাংকের একই ভবনে এসে বাসা ভাড়া নিয়েছে। হয়তো তারা রেকি করেছে কীভাবে ভল্ট ভেঙে টাকা চুরি করা যায়। এদের পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে। ব্যাংক চোরচক্রের সদস্য তারা। চক্রটি ব্যাংককেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে। বায়তুশ শরফ জিলানি মার্কেটের মালিক আবদুল হাই তাদেরকে বাসা ভাড়া দেবেন বলে চাবি দিয়েছিলেন। তাদের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি। ফলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তাদের পরিচয়পত্র বা ছবি থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো। ভবনের মালিক আবদুল হাই যুগান্তরকে বলেন, কয়েকদিন আগে পঞ্চাশোর্ধ্ব দু’জন ব্যক্তি এসে এনজিও অফিস করবে বলে বাসা ভাড়া চায়। তাদের একজন বেলজিয়াম থেকেও ফোন করে বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য। তাদের সঙ্গে লিখিত কোনো চুক্তি হয়নি। শুধু বাসা পরিষ্কার করার জন্য তাদের চাবি দেয়া হয়। তারা যে বাসায় অবস্থান করছিল, তা আমি জানতাম না। চুক্তি করার সময় অবশ্যই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সব নিতাম। ডবলমুরিং থানার ওসি সুদীপ কুমার দাশ যুগান্তরকে বলেন, ইউসিবি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। চোরচক্র ভল্ট ভাঙতে পারেনি। ফলে ভল্টে রাখা টাকা সব ঠিকঠাক রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম এ চোরচক্রের সদস্য গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন কৌশলে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, চোরচক্রের সদস্য কত তারা আর কোথায় কোথায় অপরাধ করেছে। তাদের পেছনে কারা রয়েছে সবই বের করার চেষ্টা চলছে। পূবালী ব্যাংকের দুই শাখায় এটিএম বুথে টাকা চুরির ঘটনায় চার মাসেও কেউ গ্রেফতার হয়নি : গত বছরের ১৯ নভেম্বর পূবালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা ও চকবাজার শাখায় অভিনব কায়দায় এটিএম মেশিন থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শাখা দুটির ব্যবস্থাপক ডবলমুরিং ও চকবাজার থানায় প্রথমে জিডি করেন। পরে মামলা করেন। এটিএম বুথে লাগানো সিসি ক্যামেরায় চোরচক্রের সদস্যদের দেখা গেলেও চার মাসে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। ডবলমুরিং থানার ওসি সুদীপ কুমার দাশ জানান, পূবালী ব্যাংকের এটিম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় মামলা হলেও আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
দেশবার্তা ডেস্ক:


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *