মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

‘মুভি মোঘল’ জাহাঙ্গীর খান আর নেই

বাংলা চলচ্চিত্রের মুভি মোঘলখ্যাত কিংবদন্তি প্রযোজক এ কে এম জাহাঙ্গীর খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার সকালে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিরো ৮২ বছর। অনেকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন এ কে এম জাহাঙ্গীর খান। হঠাৎ শরীর খারাপ হলে তাকে দুই সপ্তাহ আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে সংগীতশিল্পী ঝুমু খান জানান, আজ এশার নামাজের পর মুগদাপাড়ায় স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে মাগরিবের নামাজের পর গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদে প্রথম জানাজা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশক চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিনোদনের নানামাত্রিক বৈশিষ্ট্যের ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। পোশাকি, ফ্যান্টাসি, ফোক ও সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়ন করেছেন। তার অধিকাংশ ছবির প্রাণ গল্প, গান ও সংলাপ।
এ কে এম জাহাঙ্গীর খান ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রে প্রথমে পরিবেশক ছিলেন। পরে প্রযোজক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।
জাহাঙ্গীর খান প্রথম আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘নয়নমনি’ নামের সিনেমা প্রযোজনা করেন। সিনেমাটি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করায় একের পর এক প্রযোজনা করেন ‘তুফান’, ‘বিজয়িনী সোনাভান’, ‘রূপের রাণী চোরের রাজা’, ‘রাজকন্যা’, ‘বাদল’, ‘কুদরত’, ‘আলতাবানু’, ‘সওদাগর’, ‘রাজ সিংহাসন’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘পদ্মাবতী’, ‘সম্রাট’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘ডাকু মর্জিনা’, ‘সোনাই বন্ধু’, ‘রঙিন রূপবান’, ‘রঙিন রাখালবন্ধু’, ‘শুভদা’, ‘রঙিন কাঞ্চন মালা’, ‘সাগর কন্যা’,‘শীষমহল’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘ডিসকো ড্যান্সার’, ‘বাবার আদেশ’, ‘আমার মা’সহ অসংখ্য সিনেমা।
এসব সিনেমা প্রযোজনার আগে তিনি আলমগীর পিকচার্সের ব্যানারে পরিবেশনা করেন ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’, ‘এখানে আকাশ নীল’, ‘অপবাদ’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘কি যে করি’, ‘আলিঙ্গন’, ‘সেতু’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘মা’, ‘নোলক’ ইত্যাদি।
তার প্রযোজিত সিনেমাগুলো একটানা ২৫, ৮১, ১০৩ সপ্তাহ অর্থাৎ রজত জয়ন্তী, সুবর্ণ জয়ন্তী, হীরক জয়ন্তী ছুঁয়ে সগৌরবে চলেছে। তখন এ কে এম জাহাঙ্গীর খানকে চিত্রালীর সম্পাদক মরহুম আহমদ জামান চৌধুরী ‘মুভি মোগল’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তার দেয়া এই উপাধি আজও স্বীকৃত। জাহাঙ্গীর খানের সর্বশেষ নির্মাণ ছিল ১৯৯৮ সালে তাঁর প্রযোজিত ‘রঙিন নয়নমণি’ ছবিটি। মাঝে দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র প্রযোজনা থেকে দূরে ছিলেন। প্রায় ২০ বছর পর আবার একসঙ্গে তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ফেরেন তিনি। ‘স্বাধীনতা’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ ও ‘রাধারমণ’ সিনেমা তিনটির মহরত হয়েছিল গত অক্টোবরে।
নিজের প্রযোজনা সংস্থা আলমগীর পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত ৪৩টি সিনেমার প্রিন্ট, পোস্টার, ফটোসেট, অ্যালবাম বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভকে প্রদান করেন এ কে এম জাহাঙ্গীর খান। তার প্রযোজিত এবং চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত শুভদা ১২টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ড গড়ে। ১৯৩৯ সালের ২১ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কাজীবাড়ি মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরো নাম আবুল খায়ের মো. জাহাঙ্গীর খান। জীবদ্দশায় বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শৈশবে বেশ দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন তিনি। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে সিনেমা দেখা শুরু করেন। সিনেমা দেখা তার কাছে একটি আদর্শের বিষয় মনে হতো। কানন দেবীর ছবির ভক্ত ছিলেন তিনি। শরৎচন্দ্রের ‘মেজদিদি’র চলচ্চিত্রায়ণ দেখে সিনেমার প্রতি অনুপ্রাণিত হন। সত্যজিৎ রায়ের ছবি তাকে চলচ্চিত্রজগতে আসতে উৎসাহিত করে। এ কে এম জাহাঙ্গীর খান ১৯৫৮ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস, ১৯৬০ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি ও ১৯৬২ সালে বিএসসি পাস করেন। ১৯৬৩ সালে জাপানে ফুজি কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে যোগ দেন তিনি।
দেশবার্তা ডেস্ক:


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *