বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০০ অপরাহ্ন

গণপূর্ত ক্যাডারে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েও হয়রানীর শিকার চৌকস প্রকৌশলী আশরাফুল আলম

বিশেষ প্রতিনিধি: গণপূর্ত ক্যাডারে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েও নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।
ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অভিপ্রায় নিয়ে সব সময় ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর থাকে। একশ্রেণির মানুষ রাতারাতি চরিত্র পালটে ফেলেন । নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে ফায়দা লুটেন। হাজার বছরের ইতিহাস থেকে তা শিক্ষণীয়। মীরজাফররা অতীতে ছিলেন এখনও আছেনÑ ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাদের লোভলালসা ক্ষমতার মসনদে বসার জন্যে সব সময় একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল তৈরি করেন। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কিংবা দায়িত্বশীল এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে তারা সব সময় বঞ্চিত হনÑ এটাই স্বাভাবিক। কাজেই যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন সত্যের জয় একদিন হবেই । এ প্রসঙ্গে একথাগুলো বললেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম।
তিনি বলেন, আমি সব সময় দেশ ও জাতির কল্যাণে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অপ্রগতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। ছাত্রজীবনে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। আর দায়িত্ব পালন করেছি রুয়েটের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে। শ্রেণি প্রতিনিধি নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল হতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে চাকরির সুবাদে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে দেশের প্রতি কমিটমেন্ট রেখে আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। একটি মহল আমাকে বারবার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে আমি বগুড়ার বাসিন্দা আর বগুড়ায় জন্ম হলেই নাকি বিএনপি। সে কারণে নানাভাবে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি অসাম্প্রদায়িক ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে, আদর্শ নিয়ে ছাত্রলীগ করেছি। অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকে আমার চরিত্র হননে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দেশের প্রতিটি জায়গায় অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড ব্যক্তিবর্গের অবাধ বিচরণ ঠেকাতে সর্বত্রই দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সরকারি/আধাসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আমি এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড কর্মকর্তারা এখন গা ঢাকা দিচ্ছে এবং দুদকের ভয়ে মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। দেখা গেছে হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারী ভিন্নদলের ব্যক্তিরা রাতারাতি মায়াকান্না করে অভিনয় করছেন। তাদের অতীত ইতিহাস সবার জানা। তারা চিহ্নিত অথচ তারা আজ বহাল তবিয়তে । যারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন লালন করেন আজ তারাই সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত। বরং তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে ও এখনও চলছে। নীতি নৈতিকতার মূল্য নেই। কাজেই আমরা সব সময় পাশে ছিলাম, পাশে আছি। অনৈতিক কোনো কর্মকা-ে অতীতে ছিলাম না এখনও নেই। প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম দুঃখ করে বলেন, যারা বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতিকে লালন পালন করেছেন আজ তারাই বিতাড়িত হয়েছে। তাদের মায়াকান্না ও দুরভিসন্ধির কারণে আজ পুরো গণপূর্তের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে চলেছে। আমি ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে আপস করিনি ভবিষ্যতেও করবো না বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন। শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৮২ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসিতে স্টারপ্রাপ্ত। পাবনা ক্যাডেট কলেজ হতে ১৯৮৪ সালে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে স্টারপ্রাপ্ত, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে ২য় ¯œাতাক এবং এমবিএতে ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেন । তিনি ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায় গণপূর্ত ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তার কর্মজীবন শুরু করেন। চাকরি জীবনে সরকারের যখন নতুন পিপিআর চালু হয়, তখন ২০০৭ পিপিআর প্রশিক্ষণে ১৯টি ক্যাডারের মধ্যে তিনি ১ম স্থান অধিকার করেন। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর পর দ্বিতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ব্যস্তবায়ন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১০টি জোন অফিসের মধ্যে রংপুর জোন প্রথম স্থান অধিকার করায় চলতি ২০১৯ সালে প্রকৌশলী আশরাফুল আলমকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচে হজব্রত পালনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তিনি আল্লাহর রহমতে হজব্রত পালন করে এসেছেন। মো. আশরাফুল আলম প্রকৌশল ক্ষেত্রে একজন সফল ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম কাশেম আলী আকন্দ এবং মাতা মরহুমা আমেনা খাতুন। গোল্ডমেডেলিস্ট খেতাবপ্রাপ্ত একজন সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ কর্মকর্তা/কর্মচারীবান্ধব এই প্রকৌশলী বর্তমানে রংপুর গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরে তার মতো মেধাবী প্রকৌশলী খুব কমই আছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি যিনি ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায় গণপূর্ত ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন। অথচ তাকে নিয়ে চলছে ষড়যন্ত্র। যোগ্যতম ব্যক্তিকে কীভাবে অপসারণ করা কিংবা নাজেহাল করা যায় সে ব্যাপারে একটি কুচক্রীমহল সব সময় রয়েছে তৎপর। মেধাবীরাই কেবল তাদের মেধা দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে সমৃদ্ধ ও আলোকিত করতে পারে। তেমনই একজন মেধাবী ও চৌকস প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম। সংশ্লিষ্টরা এবং নীতিনির্ধারকরা তা যাচাই-বাছাই করে এবং সঠিক মূল্যায়ন করবেন এবং মেধার ভিত্তিতে পদ বন্টন করবেন। এটাই প্রত্যাশা করেন প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। তার মতো মেধাবী ব্যক্তিকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত না করে বরং অপদস্থ’ এবং অনুৎসাহিত করা হলে মেধাশূন্য হয়ে পড়বে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং জাতি বঞ্চিত হবে একজন সূর্যসন্তানের সেবা থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *