মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১২:২৭ অপরাহ্ন

এক বছরে ডিএসই মূলধন হারিয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা

২০১৯ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা থাকলেও বছর জুড়েই আলোচনায় ছিল দরপতন। বছরের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিনিয়োগকারীদের আশাভঙ্গের মধ্য দিয়েই কেটেছে ২০১৯ সাল| জানুয়ারির ঊর্ধ্বগতি আর দু-একবার সাময়িক দরবৃদ্ধি বাদ দিলে সারা বছরই মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করে শেয়ারবাজারে। এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা মূলধন খুইয়েছেন ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। আইপিওর মাধ্যমে নতুন সিকিউরিটিজ এসেছে মাত্র ৮ প্রতিষ্ঠানের। বিদেশিদের লেনদেন কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে মোট ২৩৭ দিন লেনদেন হয়| গড় লেনদেন ছিল ৪৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকা| অপরদিকে ২০১৮ সালে ২৪২ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৫২ কোটি ৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ৪৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় অবনিত হয়েছে। ২০১৯ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নিত হয়েছিল এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি| শিল্প উদ্যোক্তারা ২০১৯ সালে পুঁজিবাজার থেকে একটি বন্ডসহ মোট ৮টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৬১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে। অপরদিকে ২০১৮ সালে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ১৪টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মোট ৬০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ২০১৯ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৮৯ তাংশ। ২০১৯ সালে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অপরদিকে ২০১৮ সালে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।ডিএসইর মূল্য সূচকসমূহ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৯৩২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৪৫২ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে অবনিত হয়| ২০১৯ সালে ডিএসইএক্স মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৫৯৫০ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৪৪১৭ পয়েন্ট| ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪ হাজার ৯০ পয়েন্ট নিয়ে এই সূচকের যাত্রা শুরু হয়।অন্যদিকে ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) এক বছরের ব্যবধানে ৩৬৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৫১৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইএক্স শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২৩২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৯৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে অবনিত হয়।

সাদিয়া সুলতানা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *