বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:৫০ অপরাহ্ন

বই উৎসব, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার

কাজী জাহিদ ইকবাল হোসেন:
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। নতুন বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পাবে দেশের প্রায় চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি নতুন বই। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ। উপজেলাপর্যায়ে পৌঁছে গেছে নতুন বই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। পর দিন উৎসবের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে নতুন বই। নতুন বছরের প্রথম দিনটি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাসির আলোয় উদ্ভাসিত হওয়া একটি শুভ উদ্যোগ। বছরের শুরুতেই এ কাজটি সাফল্যের সঙ্গে করতে পারার জন্য শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে বিষয়টি জানা যায়, মাধ্যমিকপর্যায়ের উৎসব হবে সাভার অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে। প্রাথমিক স্তরের উৎসব অনুষ্ঠিত হবে গত বছরের মতো এ বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে।
নতুন শ্রেণিতে নতুন বই পাওয়ার আনন্দই অন্যরকম। সে বই যদি বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই। এর মধ্যে এক ধরনের সার্বজনীনতাও রয়েছে। কেননা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের অনেকেরই নতুন বই কেনার সামর্থ্য থাকে না। তারা আগে পুরনো বই দিয়েই বছর পার করত। এখন সবার হাতেই নতুন বই আসবে। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথমদিনে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে শামিল করতে পারা সরকারের অন্যতম ভালো কাজ নিঃসন্দেহে।
সময় মতো বই ছাপানো ও বই বিতরণের পর প্রতি বছর ছাপার মান নিয়ে অভিযোগ থাকে। এ বছর যেনো এমন অভিযোগ না আসে এ জন্য সংশ্লিষ্টরা আগে থেকেই সতর্ক ছিলো বলে আমরা জানতে পানি। কোনো কোনো বছর বই প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়া ছাড়াও বিতরণকৃত কিছু বইয়ের বিষয়ে মুদ্রণ বিভ্রাট, পাতা এলোমেলো থাকা, ছাপার মান খারাপ হওয়া ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে। এতো বিশাল কর্মযজ্ঞে কিছু ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, আসতে পারে বিভিন্ন স্তরে বাধা। কখনও কখনও সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিরও খবর হয়েছে। মনে রাখতে হবে, মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ব্যর্থতা অথবা দুর্নীতির কারণে একটি মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে না। এ কার্যক্রমের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে কীভাবে একে সর্বাঙ্গীণ সফল করা যায় সেদিকেই এখন সরকারের দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আমরা চাই, এমন একটি অনুষ্ঠান যেন সবসময় সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।
বিনামূল্যের বই বিশেষত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র অভিভাবকদের জন্য এক বড় ধরনের স্বস্তি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সহায়তায় তাদের আর্থিক কষ্টের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে নিঃসন্দেহে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়াসহ প্রাথমিক শিক্ষার অন্য সমস্যাগুলোর যদি প্রতিকার করা যায়, তাহলে এ দেশের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার ভিতটি শক্তভাবে গড়ে উঠতে পারবে, যা একটি জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *