রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বিতর্কের সৃষ্টি করছে: ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অনাহুত বিতর্কের সৃষ্টির পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। স^াধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা, চর্চা এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশন। তিনিই ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে মাদ্রাসা বোর্ড পুনর্গঠনসহ ইসলাম প্রচারে তাবলিগ জামাতকে জমি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা পবিত্র ধর্মের একজন নিবেদিত প্রাণ ও অনুসারি হিসেবে ইসলামের সঙ্গে জ্ঞানবিজ্ঞানের সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রকৃত ইসলামের চর্চা এগিয়ে নিতে মানুষের ধর্মানুরাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণ করেছেন মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স। একজন ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে তখন এদেশে ইসলাম বিরোধী কোন কার্যক্রম হবে, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
[৩] তিনি বলেন, ভাস্কর্যকে যারা মূর্তি বলে অপপ্রচারে নেমেছেন, তারা নিজেরাই ভ্রান্তিতে রয়েছেন। দেশের আলেম সমাজ এবং বিশেষজ্ঞগণ বারবার বলেছেন, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। ইসলাম আমাদের ধর্ম। এ ধর্মের বিধিবিধানে ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই। নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্ক করতে। নিষেধ করা হয়েছে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে। বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য টেনে হেঁচড়ে নামাবে বলে কোন কোন ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন। এমন রুচি ও ভাষা ব্যবহার দেখে তাদের ধর্মচর্চা ও ইসলামি রুচিবোধ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ইসলাম চর্চার করুন। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে সবাই বিরত থাকুন। ধর্মকে রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার না করারও আহবান জানান তিনি।

[৪] সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হুশিয়ার করে বলেন, সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। জনগণের শান্তি বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা জনগণ রুখে দাঁড়াবে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী যে কোনো বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। সরকার প্রধান আগেই বলেছেন, দেশে কোরআান-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন হবে না। তাই অন্য কোন পথ না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। যারা দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, তাদের সবাইকে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *