মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

চলে গেলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পরে অবশেষে হার মানলেন ফেলুদা। পরাজিত হলেন মৃত্যুর কাছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ণিল এক অধ্যায়ের সমাপ্ত হলো।

করোনাই যেন অনুঘটকের মতো সৌমিত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেল সেই না-ফেরার দেশে। তবে অনেকরকম জটিলতা দেখা গিয়েছিল শরীরে।রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে সৌমিত্রের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ৪০ দিন ধরে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জি নিউজ জানায় মাল্টিঅর্গান ফেলিওর, ব্রেনডেথ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সৌমিত্রের। বুধবার বিকেলের পর থেকেই চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন সৌমিত্র। চিকিৎসায় স্বাভাবিক নিয়মে করোনামুক্তও হয়েছিলেন। কিন্তু শরীরে বার্ধক্যজণিত নানা রোগের সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠতে পারছিলেন না। ফলে দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের তিন দিন আগে শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার সফলও হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করছে। তবে তিনি খুব দুর্বল। শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচারের পর সৌমিত্রকে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল।

৪০ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। গত ২৪ অক্টোবর রাত থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

গত ৬ অক্টোবর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এরপর ১৪ অক্টোবর অভিনেতার কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু কোভিড এনসেফেলোপ্যাথির কারণে তার স্নায়ুতে প্রভাব পড়ে। এরপর থেকেই প্রায় অচেতন তিনি। মাঝে কয়েকদিন চোখ মেলে সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোববার দুপুরে এলো তার মৃত্যুর খবর।

দর্শক নন্দিত এ নায়ক জীবনের বেলাশেষে চলে গেলেন অতল মৃত্যুর আহ্বানে। বাঙালি হারাল এ সময়ের এক অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে। প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ফিল্ম-ক্যারিয়ার সৌমিত্রের। সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ দিয়ে তার অভিনয়জীবন শুরু।
নাট্যশিল্পী হিসেবেও তিনি বিশিষ্ট। তার কর্মজীবন অবশ্য আকাশবাণীতে শুরু ঘোষক হিসেবে। পরে বাচিক শিল্পী হিসেবেও তিনি ছাপ রাখেন। তার কণ্ঠে রবীন্দ্রকবিতা বা জীবনানন্দ আচ্ছন্ন করে কবিতারসিক বাঙালিকে। কবিতা আবৃত্তি শুধু নয়, নিজে কবিতা রচনাও করেছেন তিনি। করেছেন পত্রিকা সম্পাদনার কাজ। তবে তিনি মূলত অভিনেতাই। বাঙালির অন্যতম প্রিয় নায়ক। উত্তমকুমারের প্রতিস্পর্ধী এক অভিনেতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *