মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

রোমাঞ্চকর ক্লাসিকোয় রিয়ালের দারুণ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক,
ব্যর্থতার রেশ কাটাতে ক্লাসিকোই সঠিক মঞ্চ-কোচের দেখানো পথে আলো ছড়ালেন সের্হিও রামোস ও তার সতীর্থরা। ম্যাচের শুরুতেই তাদের আঘাতের পাল্টা জবাব অবশ্য দিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর পেরে ওঠেনি কাতালান ক্লাবটি। প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে জিনেদিন জিদানের দল।

ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না মুগ্ধ জিদান

‘ভিএআর কেবল বার্সার বিপক্ষে যায়’

বার্সাকে হারিয়ে ‘বাজে সময়ের শেষ’ রিয়ালের

রাউলের রেকর্ড ভাঙলেন ফাতি

কাম্প নউয়ে শনিবার মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোয় ৩-১ গোলে জিতেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ফেদে ভালভেরদের গোলে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন আনসু ফাতি। বিরতির পর রিয়ালের অন্য দুটি গোল করেন রামোস ও লুকা মদ্রিচ।

লা লিগায় কাদিস ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে হারের হতাশা তো ছিলই। সেই সঙ্গে ওই দুই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সও কোচের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল। তাদের সব হতাশা ঝেড়ে ফেলার ইঙ্গিত মেলে শুরুতেই। মাঝপথে প্রতিপক্ষ পাল্টা চাপ দিলেও রামোসের গোলের পর ফের আত্মবিশ্বাসী রিয়ালের দেখাই মেলে।

বল দখলে বার্সেলোনা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য করেছে রিয়াল। গোলের উদ্দেশে তাদের ১৫ শটের ৯টি ছিল লক্ষ্যে, বিপরীতে স্বাগতিকদের ১০ শটের চারটি লক্ষ্যে।

২০০৭ সালের পর এই প্রথম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। গত মৌসুমে শেষ ক্লাসিকোয় ঘরের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল তারা।

লিগে এই নিয়ে টানা দুই ম্যাচ হারল বার্সেলোনা; গত সপ্তাহে গেতাফের মাঠে হেরেছিল তারা। আর এই দুই ম্যাচের আগে সেভিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল রোনাল্ড কুমানের দল।

কাদিস ও শাখতারের বিপক্ষে রিয়ালের মন্থর শুরু ছিল দৃষ্টিকটু। সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে বেনজেমার বুদ্ধিদীপ্ত পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জায়গা বানিয়ে কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ভালভেরদে।

গোলটির পেছনে কিছুটা দায় আছে জেরার্দ পিকে-ক্লেমোঁ লংলেদের। বেনজেমাকে বার্সেলোনার তিন জন ঘিরে থাকলেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

রিয়ালের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিটি পরই পাল্টা জবাব বার্সেলোনার এবং গোলদাতা সময়ের সেনসেশন ফাতি। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু বল ধরে বাঁদিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ছয় গজ বক্সের মুখে পাস দেন জর্দি আলবা, আর নিখুঁত টোকায় সমতা টানেন তরুণ স্প্যানিয়ার্ড।

বার্সেলোনার জার্সিতে ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের এটি ত্রয়োদশ গোল, এবারের লিগে চতুর্থ। আর ক্লাসিকোয় কাতালান ক্লাবটির এটি ৪০০তম গোল।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াইয়ে পরপর দুই মিনিটে উভয় পক্ষ দারুণ দুটি সুযোগ হারায়। ২৩তম মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে কাছ থেকে মেসির কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান রিয়াল গোলরক্ষক। ওখান থেকে প্রতি-আক্রমণে উঠে নেতোকে একা পেয়েও বার্সেলোনার গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন বেনজেমা।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ফাতির কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে হাফ ছেড়ে বাঁচে রিয়াল। দুই মিনিট পর তার ক্রস ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ৫৭তম মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন অরক্ষিত বেনজেমা।

৬৩তম মিনিটে রামোসের সফল স্পট কিকে আবারও এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। ডি-বক্সে বার্সেলোনা ডিফেন্ডার লংলে রিয়াল অধিনায়কের জার্সি টেনে ধরলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

শেষ দিকে এক মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ তিনটি সুযোগ নষ্ট হয় রিয়ালের। টনি ক্রুসের সোজাসুজি শট নেতো ফেরানোর পর আলগা বল ধরে আবারও কোনাকুনি শট নেন জার্মান মিডফিল্ডার, এবারও তা রুখে দেন গোলরক্ষক। খানিক পর কাছ থেকে বেনজেমর শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় পা দিয়ে ঠেকান ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নেতো।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন মদ্রিচ। আক্রমণের শুরুও তার হাত ধরে। ভিনিসিউস জুনিয়রের উদ্দেশে এই ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের বাড়ানো বল ঠেকাতে এগিয়ে যান নেতো, কিন্তু বল হাতে জমাতে পারেননি তিনি। আলগা বল রদ্রিগো ধরে বাড়ান মদ্রিচকে। ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী সময় নিয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে নিচু শটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। জয়োল্লাসে মাতে রিয়াল।
ছয় ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফিরেছে রিয়াল। ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল সোসিয়েদাদ। তিন নম্বরে থাকা ভিয়ারিয়ালের পয়েন্টও ১১।
এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে পাঁচ নম্বরে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *