মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির নৃশংস বর্বরতার চিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিবাদ সভা করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত বেড়েই চলেছে, আরও ৩০ প্রাণহানি কমনওয়েলথের শীর্ষ ৩ অনুপ্রেরণীয় নারী নেতৃত্বের তালিকায় শেখ হাসিনা ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট নিয়ে যা বললেন ইনজামাম অনন্ত-বর্ষার শতকোটি টাকার ছবি আসছে ঈদুল আজহায় ‌‘নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ’ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য নয় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে ৭ কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি সভা চলছে নোয়াখালিতে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে আখাউড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

করোনা দুর্যোগ কর্মসংস্থানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে

কাজী জাহিদ ইকবাল হোসেন:
বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাদশা বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলবে, এমন আশঙ্কা অনেক আগেই প্রকাশ করেছিল বিশ্বব্যাংক। তবে করোনা মহামারির ধাক্কা সামাল দিতে সরকার এরইমধ্যে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিক পথেই আছে বলে মনে করছে তারা। আবার নতুন আশঙ্কার কথাও বলছে সংস্থাটি। তাদের পূর্বাভাস হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলেও সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসতে পারে, সেই সঙ্গে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের কর্মীদের আয় কমে আসায় ভোগব্যয় বাড়ার সুযোগ থাকবে না। স্বল্প মেয়াদের জন্য হলেও দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, কৃষির বাইরে বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের যে কর্মীরা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ হচ্ছে, অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো যেন টেকসই হয়, সে জন্য সরকারকে আর্থিক খাত ও ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। আর্থিক খাতকে মজবুত করার দিকে নজর দিতে হবে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসংশ্লিষ্ট কয়েক কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছে কিংবা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। আর বিশ্বের ১৬০টি দেশে থাকা এক কোটি প্রবাসীর মধ্যে করোনাকালে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিন লাখ কর্মী। করোনা দুর্যোগে বেকার হয়ে পড়া বিপুল এই জনসম্পদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের আয়ে ফিরিয়ে আনার এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রবাসীরা চাইলে দেশের চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবেন। উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ ঋণসুবিধা দেওয়া হবে। আবার বিদেশে যেতে চাইলে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নতুন করে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদেরও এই প্রকল্পের অধীন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট বা রেইজ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে এক লাখ লোকের চাকরির পাশাপাশি তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অর্থনীতির চাকা গতিশীল থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *