মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০২ অপরাহ্ন

আখাউড়া-আগরতলা সহ বাংলাদেশের পুর্বাঞ্চলের রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে,২২সালের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা … রেলমন্ত্রী ।

শফিকুল ইসলাম খান আখাউড়া থেকেঃ
রেলপথমন্ত্রী মো নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালে ট্রেনেযোগে কক্সবাজার যাওয়া যাবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় আন্তঃনর বিজয় এক্সপ্রেসে ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,আগামী বছরের মার্চে মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ অংশ আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেট রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেল মন্ত্রী আরো বলেন ভারতের অর্থায়নে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ হচ্ছে এটার জন্য আমাদের কোনো টাকা দিতে হয়নি ভারত সরকারকে, তার সাথে সাথে স্টেশন ভবন এবং কাস্টমস ভবনসহ অন্যান্য যেসব স্থাপনা প্রয়োজন সেসব স্থাপনাও ভারত সরকার নির্মাণ করছে।
তাছাড়া আখাউড়া রেল জংশন থেকে লাকসাম রেল জংশন পর্যন্ত ডাবল রেললাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এসব প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলেই ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেন চলবে। এর আগে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন তিন দিনের সফরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন, ফেনী, লাকসাম ও কুমিল্লাসহ চট্টগ্রামের দোহাজারী, চকরিয়া ও কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, ২০১১ সালে আলাদা রেলমন্ত্রণালয় করার পর থেকে রেল বিভাগকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাছাড়া রেলওয়ের বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে শক্ত হাতে নেমেছি। আখাউড়া – আগরতলা রেলপথ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজে ৪৫ শতাংশের অধিক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রকল্পপের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়নি। মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকা পরিদর্শন করে মনে হয়েছে প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে।
রেলমন্ত্রী সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন, রেলের সকল রুট মিটারগেজের পরিবর্তে ব্রডগেজে রুপান্তর করার। এ কারণে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইনের কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেললাইন ডুয়েলগেজে রুপান্তর করতে হবে। আখাউড়া থেকে টুঙ্গি পর্যন্ত রেললাইনেও ডুয়েলগেজে রুপান্তর করতে হবে। এসব কাজ যদি সম্পন্ন হয় তাহলে মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ ট্রেন আমরা চালাতে পারবো।
উল্লেখ্য, ২৮০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলওয়ে বাংলাদেশ অংশ। সাড়ে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্পের কাজ করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি।চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস ও বর্ষা মৌসুম থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।তাই দ্বিতীয় দফায় আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *